শেফাইল উদ্দিন, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ঈদগাঁও–খুরুশকুল–কক্সবাজার ডিসি সড়কে হঠাৎ করেই সিএনজি অটোরিকশা, টমটম ও অন্যান্য ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো ধরনের সরকারি ঘোষণা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই চালকদের ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বল্প দূরত্বের রুটেও আগের তুলনায় জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে অনেক ক্ষেত্রে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা এমনকি অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটছে।

এই আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হওয়ায় তাদের মাসিক যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকির অভাবে কিছু পরিবহনচালক পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের ব্যাপারে টমটমচালক শাহজাহান, ইউসুফ নবী ও আরাফাত বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তাই চালকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি আলম বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে সিএনজির পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এ কারণেই জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের কর্মরত এবং ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা আবু নোমান মো. মাসুদ রানা বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমোদন ছাড়াই টমটম চালক সমিতির ব্যানারে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অজুহাতে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এতে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।” তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করবে এবং নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যাত্রীদের ভোগান্তি ও হয়রানি দূর করবে।